>

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীসহ বিতর্কিত অধ্যাপক জামান

দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীসহ বিতর্কিত অধ্যাপক জামান

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আকম মোস্তফা জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের সাবেক ডিন ছিলেন।২০২০ সালের জানুয়ারীতে নারী কেলেংকারীর সাথে জড়িত থাকা ও দুর্নীতির দায়ে  শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উক্ত অনুষদ থেকে অপসারিত হন। তার যৌন হয়ারানীতে অতীষ্ট হয়ে  জিও মেটিক্স  বিভাগের প্রভাষক ইফফাত আরা এবং ল্যান্ড এডমিনুস্ট্রেশন বিভাগের প্রভাষক জি এন তানজিনা হাসনাত চাকুরী ছেড়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান।

গত ২ ফেব্রুয়ারী তারিখ একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আকম মোস্তফা জামান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছেন।মুলত আকম মোস্তফা জামান কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।তিনি মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বিভিন্ন পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। মোস্তফা জামানের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার পাজড়াভাংগা গ্রামে।বরগুনা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার কোন নামগন্ধও  নেই।বরগুনা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান বলেন (০১৭২১০৭১১০০)বলেন, মোস্তফা জামান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে পত্রিকায় যে তথ্য দিয়েছেন তা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।তার এ-ই ভুয়া তথ্য আমাদেরকে খুব হতবাক করেছেন।তিনি কখনো মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কোন কাজ করেন নি, বরং তিনি একজন রাজাকার পরিবারের সন্তান।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য বিদায়ী প্রো-ভিসি মোহাম্মদ  আলী বলেন, দীর্ঘদিন এক সাথে ছিলাম কোন দিন শুনি নি উনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.প্রফেসর  আবুল কাশেম বলেন, যখন ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করেন তখন সিভিতে মুক্তিযুদ্ধের কথা লিখা নেই।সদ্য বিদায়ী  ভিসি হারুন অর রশীদের ডানহস্ত

হিসেবে পরিচিত আকম মোস্তফা জামান কট্টরপন্থী বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।বিগত দিনে জিয়াউর রহমানের জন্ম বার্ষিকী, খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকি সহ বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকদের সাদা দল ও জিয়া পরিষদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জল উপস্থিতি ছিল।

জামাত -বিএনপির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম,  প্রফেসর ড.একেএম আব্দুল হান্নান ভুইয়া, প্রফেসর ড.ওয়াদুজ্জুমানের সাথে তার সখ্যতা থাকায় তিনি ডিন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, সৃজনী বিদ্যানিকতেনের পরিচালক, বিভিন্ন তদন্ত কমিটির সভাপতিসহ বিভিন্ন কমিটির শীর্ষ পদে আসীন থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি বনে যান। তথ কালীন দুমকি উপজেলা পরিষদের উত্তর পাশে ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে ১৩ কাঠা প্লট ক্রয় করেন, এছাড়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ১ংং গেইটের পাশে ১২ কাঠার জমি ক্রয় করে দুতলা বিল্ডিং  অর্ধকোটি টাকার খরছে।

সদ্য বিদায়ী ভিসি হারুন অর রশীদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় তাকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, সৃজনী বিদ্যানিকেতনের পরিচালক তদন্ত কমিটির সভাপতি পদ সহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব দ্র‍্যা হয়। নিয়োগ বানিজ্য সহ বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা কামিয়ে নেন বলে অভিযোগ আছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ঢাকার মিরপুর ক্যন্টন মেন্ট এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাট ক্রয় করেন।এছাড়া ঢাকা ও বরিশালে স্ত্রী ও দুই ছেলের নামে আরো তিনটি প্লট আছে যার মুল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা। তার এই অবৈধ অর্থ ও দুর্নিতির বিরুদ্ধে গত বছরের মার্চ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ দাখিল করে ঐ বিশ্ব বিফ্যালয়ের অভিভাবক ফোরাম্।বর্তমানে উক্ত দুর্নীতির তদন্ত চলছে বলে জানা যায়।

জামানের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগও আছে।শিক্ষা জীবনে তার কোন স্নাতক সনদ নেই।গত ১৭ জুন ২০২০ ঈং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য সিভি জমা দেন তিনি। উক্ত সিভিতে এইচএসসি পাশের পর স্নাতক পাশের বিষয় টি উল্লেখ করেন নি যা গোপন রাখেন।তিনি মালেয়াশিয়া ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে কৃষিতত্ত্ব বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন -যা ইন্টারমিডিয়েট পাশের ভ্যালু দেয়।উক্ত সনদপত্র দিয়ে ১৯৮৪ সালের ৮ এপ্রিল থেকে পটুয়াখালী কৃষি কলেজের প্রভাষক পদে চাকরী করে আসছেন।চাকুরীর শুরু থেকে তিনি বিভিন্ন নারী কেলেংকারীর সাথে  জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তিনি ছাত্র ছাত্রীদের কোমলমতি আখ্যা দিলেও তার ভোগ বিলাসের শিকার হয় কোমলমতিরা। মিথ্যে প্রলোভনে অনেক ছাত্রীর সম্ভ্রম হানি করেছেন তিনি।কিছুদিন পূর্বে এ-ই জামানের সোস্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন নারীদের সাথে অশ্লীল কথোপকথন  প্রকাশিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সৃজনী বিদ্যালয়ের ছাত্রদের টুনকো অপরাধে অমানবিক ও মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালান।২০১৬ সালে এ-ই ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবকরা মোস্তফা জামানের বিচারের দাবী করলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেন নি।বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরাবর অভিযোগ দাখিল হলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ ঘটনা ধামাচাপা দেন।

সুত্র দৈনিক তরুন কন্ঠ…………

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Dainikalorjagat.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com