ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম :

মসজিদের মাইকে বিএনপির ঘোষণা অতঃপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

  • অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল এলাকায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুসহ ১০ আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে গোকুলের বাঘোপাড়া খোলার ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়াও পৃথক স্থানে হরতাল সমর্থকেরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ ১৭টি মোটরযান ভাঙচুর করেছে। সকাল থেকে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে বগুড়ার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় রোগী-পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়নি।

বাঘোপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতরা হলেন- গোকুল খোলারঘর এলাকার ধলু মিয়ার ৭ বছরের শিশু মাহি, শিক্ষার্থী নয়ন, রাজু, আওলাদ ও গফুর। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যে আওলাদ অভিযোগ করেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতে তার মাথা ও হাতে জখম হয়েছে। তিনিসহ আরও কয়েকজন গুলিতে আহত হন।

এ ছাড়াও রোববার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাব্বির আহমেদ শাকিল, রাহাতুল ইসলাম রাহাত, হায়দার বাদশা নামে স্থানীয় তিন সাংবাদিক আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর থেকেই বাঘোপাড়া থেকে গোকুল এলাকায় মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে পিকেটিং করছিলেন হরতাল সমর্থকেরা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে র‌্যাবের একটি টহল দল এসে পিকেটারদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতেও হরতাল সমর্থকেরা মহাসড়ক না ছাড়লে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া থেকে ডিবির একটি টহল দল সেখানে গিয়ে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় শিশু মাহি ও আওলাদ আহত হয়।

দুই শিশু আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এরপর গ্রামবাসী গোকুল খোলারঘর জামে মসজিদের মাইকে পুলিশকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি। দুপুরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেন। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরে আবারও বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন কিনা আমি জানি না। সিনিয়র স্যারেরা বলতে পারবেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে যান। তাদের সরিয়ে দিলে পুলিশের ওপর চড়াও হন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজু ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, গুলিবিদ্ধ সাতজন এখানে এসেছিলেন। ছয়জনের হাত-পা থেকে গুলি বের করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজন শিশুর চোখ গুলিতে গুরুতর জখম আছে। তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সকালে শহরের ফতেহ আলী বাজার এলাকার গালাপট্টি সড়কে জেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিক রিগ্যানের নেতৃত্বে একটি মিছিল সাতমাথার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের বাধায় আবার নবাববাড়ী সড়কের দলীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে মিছিলটি। এরপর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের একটি দল গালাপট্টি সড়ক হয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের দিকে আগানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়াও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসার চেক হস্তান্ত, সাবেক এম পি নুরুল আমিন রুহুল

মসজিদের মাইকে বিএনপির ঘোষণা অতঃপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩

বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল এলাকায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুসহ ১০ আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে গোকুলের বাঘোপাড়া খোলার ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়াও পৃথক স্থানে হরতাল সমর্থকেরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ ১৭টি মোটরযান ভাঙচুর করেছে। সকাল থেকে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে বগুড়ার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় রোগী-পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়নি।

বাঘোপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতরা হলেন- গোকুল খোলারঘর এলাকার ধলু মিয়ার ৭ বছরের শিশু মাহি, শিক্ষার্থী নয়ন, রাজু, আওলাদ ও গফুর। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যে আওলাদ অভিযোগ করেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতে তার মাথা ও হাতে জখম হয়েছে। তিনিসহ আরও কয়েকজন গুলিতে আহত হন।

এ ছাড়াও রোববার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাব্বির আহমেদ শাকিল, রাহাতুল ইসলাম রাহাত, হায়দার বাদশা নামে স্থানীয় তিন সাংবাদিক আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর থেকেই বাঘোপাড়া থেকে গোকুল এলাকায় মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে পিকেটিং করছিলেন হরতাল সমর্থকেরা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে র‌্যাবের একটি টহল দল এসে পিকেটারদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতেও হরতাল সমর্থকেরা মহাসড়ক না ছাড়লে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া থেকে ডিবির একটি টহল দল সেখানে গিয়ে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় শিশু মাহি ও আওলাদ আহত হয়।

দুই শিশু আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এরপর গ্রামবাসী গোকুল খোলারঘর জামে মসজিদের মাইকে পুলিশকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি। দুপুরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেন। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরে আবারও বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন কিনা আমি জানি না। সিনিয়র স্যারেরা বলতে পারবেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে যান। তাদের সরিয়ে দিলে পুলিশের ওপর চড়াও হন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজু ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, গুলিবিদ্ধ সাতজন এখানে এসেছিলেন। ছয়জনের হাত-পা থেকে গুলি বের করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজন শিশুর চোখ গুলিতে গুরুতর জখম আছে। তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সকালে শহরের ফতেহ আলী বাজার এলাকার গালাপট্টি সড়কে জেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিক রিগ্যানের নেতৃত্বে একটি মিছিল সাতমাথার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের বাধায় আবার নবাববাড়ী সড়কের দলীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে মিছিলটি। এরপর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের একটি দল গালাপট্টি সড়ক হয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের দিকে আগানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়াও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।