০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মাহি কি জেদ করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন?

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজশাহী-১ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। তবে দল তাকে বিবেচনা করেনি। ফলে ওই দুই আসনের মধ্য রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের কার্যালয় থেকে মাহিয়া মাহির মনোনয়নপত্র তোলা হয়। কিন্তু রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকালে যাচাই-বাছাই শেষে মাহির মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, এক শতাংশ ভোটার জালিয়াতির (ভুয়া স্বাক্ষর) অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ করা হয়েছে।

এরপরই মাহি বলেন, ‘যতবার মানুষের কাছে কাজ করতে গিয়েছি ততবারই বাধার সম্মুখীন হয়েছি। পরবর্তীতে সাফল্য পেয়েছি। আমাকে বাধা দিয়ে লাভ নেই। আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপিলে আমার মনোনয়নপত্র বৈধতা পাবে বলেই বিশ্বাস করি।’ মাহি আরও বলেন, ‘অন ক্যামেরায় আমি কারো বিরুদ্ধে বলতে চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করার সুযোগ আছে আমি করে যাব।’

মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করার পর মাহি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি ‘জেদ’ প্রসঙ্গে কিছু কথা বলেছেন। সেই কথা শুনে ভক্তরাও প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি জেদ করেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মাহি?

এই নায়িকা তার সেই স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘জেদ’ একটা মারাত্মক ম্যাজিক্যাল জিনিস। আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না একটা মানুষের পজিটিভ জেদ ওই মানুষটাকে দিয়ে কী কী করাতে পারে। আপনি কাউকে একবার খাবার নিয়ে খোঁটা দিন, দেখবেন পরবর্তীতে সে না খেয়ে থাকছে কিন্তু আপনার কাছে কখনোই খাবার চাচ্ছে না। আপনি কাউকে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে অপমানিত করুন, দেখবেন বেশিরভাগ মানুষই সেই জায়গাটায় আর ফিরে যাচ্ছে না।

মাহি আরও লেখেন, টাকা নিয়ে খোঁটা খাওয়া মানুষ একদিন টাকার পাহাড় দাঁড় করিয়ে দেয়। যোগ্যতা নিয়ে খোঁটা শোনা মানুষ একদিন অভূতপূর্ব যোগ্যতার সহিত ফিরে আসে। সকল মানুষের জেদ থাকা উচিত। তবে সেটা পজিটিভ জেদ। সেটা একটা নির্দিষ্ট কাউকে দেখিয়ে দেয়ার জেদ। ‘আমিও করতে পারি’, এটা প্রমাণ করার জেদ।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ আসন থেকে উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েও পাননি মাহি। এরপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকার মাঝি হতে পারেননি। তবুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেখানেও বাধার মুখে পড়ে এবার শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষনা দিয়ে রাখলেন তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Mofajjal

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস রিপোর্টার্স ফোরামের শ্রদ্ধা

মাহি কি জেদ করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন?

Update Time : ০৬:২৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজশাহী-১ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। তবে দল তাকে বিবেচনা করেনি। ফলে ওই দুই আসনের মধ্য রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের কার্যালয় থেকে মাহিয়া মাহির মনোনয়নপত্র তোলা হয়। কিন্তু রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকালে যাচাই-বাছাই শেষে মাহির মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, এক শতাংশ ভোটার জালিয়াতির (ভুয়া স্বাক্ষর) অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ করা হয়েছে।

এরপরই মাহি বলেন, ‘যতবার মানুষের কাছে কাজ করতে গিয়েছি ততবারই বাধার সম্মুখীন হয়েছি। পরবর্তীতে সাফল্য পেয়েছি। আমাকে বাধা দিয়ে লাভ নেই। আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপিলে আমার মনোনয়নপত্র বৈধতা পাবে বলেই বিশ্বাস করি।’ মাহি আরও বলেন, ‘অন ক্যামেরায় আমি কারো বিরুদ্ধে বলতে চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করার সুযোগ আছে আমি করে যাব।’

মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করার পর মাহি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি ‘জেদ’ প্রসঙ্গে কিছু কথা বলেছেন। সেই কথা শুনে ভক্তরাও প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি জেদ করেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মাহি?

এই নায়িকা তার সেই স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘জেদ’ একটা মারাত্মক ম্যাজিক্যাল জিনিস। আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না একটা মানুষের পজিটিভ জেদ ওই মানুষটাকে দিয়ে কী কী করাতে পারে। আপনি কাউকে একবার খাবার নিয়ে খোঁটা দিন, দেখবেন পরবর্তীতে সে না খেয়ে থাকছে কিন্তু আপনার কাছে কখনোই খাবার চাচ্ছে না। আপনি কাউকে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে অপমানিত করুন, দেখবেন বেশিরভাগ মানুষই সেই জায়গাটায় আর ফিরে যাচ্ছে না।

মাহি আরও লেখেন, টাকা নিয়ে খোঁটা খাওয়া মানুষ একদিন টাকার পাহাড় দাঁড় করিয়ে দেয়। যোগ্যতা নিয়ে খোঁটা শোনা মানুষ একদিন অভূতপূর্ব যোগ্যতার সহিত ফিরে আসে। সকল মানুষের জেদ থাকা উচিত। তবে সেটা পজিটিভ জেদ। সেটা একটা নির্দিষ্ট কাউকে দেখিয়ে দেয়ার জেদ। ‘আমিও করতে পারি’, এটা প্রমাণ করার জেদ।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ আসন থেকে উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েও পাননি মাহি। এরপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকার মাঝি হতে পারেননি। তবুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেখানেও বাধার মুখে পড়ে এবার শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষনা দিয়ে রাখলেন তিনি।